জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশকের পরিচিতি (পাঠ ১১)

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - কৃষিশিক্ষা - কৃষি উপকরণ | NCTB BOOK
709

রাসায়নিক বালাইনাশককে বলা হয় নীরব ঘাতক। বালাইনাশক তিন প্রকার-জৈব, অরাসায়নিক এবং রাসায়নিক। রাসায়নিক বালাইনাশক প্রয়োগে পরিবেশের চরম ক্ষতি হচ্ছে। এ ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। রাসায়নিক বালাইনাশক মাত্রই বিষ। বিষ প্রয়োগে যেসব ফসল উৎপাদিত হয় তাও বিষমুক্ত নয়। বিষ শব্দটা যেমন আতঙ্কের তেমনি তার ভয়াবহতাও মারাত্মক। কাজেই পরিবেশকে বাঁচাতে এবং বিষমুক্ত ফসল ফলানোর জন্য জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত। যেসব বালাইনাশক বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের রস/নির্যাস, প্রাণিজ উপজাত এবং বিভিন্ন জৈবিক কলাকৌশল থেকে তৈরি করা হয় তাদেরকে জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক বলে। এসো আমরা জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক সম্পর্কে জানি।

(ক) জৈব বালাইনাশক

১. অ্যালামান্ডা গাছের নির্যাস ছত্রাকনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
২. রসুনের নির্যাস ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ানাশক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
৩. নিমের নির্যাস (বাকল, পাতা, ফুল ও ফল) জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। শুকনা নিমপাতার গুঁড়া বীজ ফসল/গুদামজাত শস্যের সাথে মিশ্রিত করে কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। নিমের তেল ও খৈল ফসলের মূলের কৃমিনাশক। যেমন: নিমবিসিডিন।
৪. তামাক পাতার নির্যাস 'নিকোটিন সালফেট' ব্যবহার করে ফসলের কান্ড বা পাতায় কীটপতঙ্গের আক্রমণ রোধ করা যায়।
৫. মুরগির পচনকৃত বিষ্ঠা ও সরিষার খৈল ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন সবজি ফসলের মাটিবাহিত রোগ দমন করা যায়।
৬. সুগারবিটের শিকড় থেকে আহরিত লাইমো ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি উদ্ভিদের মাটিবাহিত 'ড্যাম্পিং অফ' রোগ দমনে একটি কার্যকরি ব্যাকটেরিয়াম। এটি পোষক উদ্ভিদ, যেমন- পালংশাক ও সুগারবিটের শিকড়াঞ্চলে যুক্ত হয়ে কলোনি তৈরি করে এবং জীবাণুনাশক এন্টিবায়োটিক নিঃসরণের মাধ্যমে উদ্ভিদ রোগ দমন করে থাকে।
৭. ট্রাইকোডারমা জাতীয় প্রজাতি ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৮. বিভিন্ন ধরনের জীবাণু সার প্রয়োগ করে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

(খ) অরাসায়নিক বালাইনাশক

১. ধানের পাতার লালচে রেখা রোগমুক্ত করতে হলে ধানের বীজ ৫৪° সে. তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রেখে ব্যাকটেরিয়া জনিত বীজবাহিত এ রোগ দূর করা যায়।
২. জাব পোকা দমনে লেডিবার্ড বিটল পোকা ডাল ও তেল জাতীয় ফসলে বৃদ্ধি করা যায়।
৩. ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমনে প্রেইং ম্যানটিড এর সংখ্যা বাড়ানো যায়।
৪. ডালিম ফলের চারদিকে পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলে ডালিমকে পোকা আক্রমণ করতে পারে না।
৫. জমিতে সুষম সার ব্যবহার করলে পোকামাকড় ও রোগজীবাণু অনেক কম হয়।
৬. পোকার আশ্রয়স্থল হলো আগাছা। কাজেই জমি থেকে সবসময় আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে।
৭. আলোর ফাঁদ পেতে পূর্ণ বয়স্ক পোকা মেরে ফেলা যায়।
৮. হাতজাল ব্যবহার করে পোকা ধরে ফেলা যায়।
৯. জমিতে গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে পাখি বসিয়ে পোকা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
১০. ধান ক্ষেতে মাছের চাষ করা যায়।
১১. ফসল সংগ্রহের পর নাড়া পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
১২. কলম চারা ব্যবহারের মাধ্যমে বেগুন ও টমেটোর ব্যাকটেরিয়াল উইন্ট রোগ দমন করা যায়।
১৪. মেহগনি ফল থেকে সংগৃহীত নির্যাস ও তেল ভেষজ কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার ও প্রয়োগ করা হয়।
১৫. পরভোজী পোকা যেমন- নেকড়ে মাকড়সা, ঘাসফড়িং, ড্যামসেল মাছি, মিরিডবাগ ইত্যাদির সংখ্যা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
১৬. জমিতে ব্যাঙের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়।

কাজ: শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে দলীয়ভাবে রাসায়নিক ও অরাসায়নিক বালাইনাশকের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো লিখতে বলবেন।
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...